জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন-2022 | জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন-2022 | জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন-2022( অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন):


আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। প্রতিটি নাগরিকের জন্য পরিচয় পত্র থাকা জরুরী । বাংলাদেশে 2008 সাল থেকে ভোটার আইডি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে ।2020 সাল থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র গ্রহণ সহ অন্যান্য সেবা অনলাইনে দেওয়া শুরু হয়ে গেছে।


অনলাইন থেকে স্মার্ট আইডি কার্ডের আবেদন থেকে শুরু করে ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত সকল সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে ।জাতীয় পরিচয় পত্রে অনেকেরই অনেক সময় তথ্য ভুল থাকে। স্মার্ট আইডি কার্ড /ভোটার আইডি কার্ডের ভুল থাকলে তা সংশোধনের উপায় আছে। জাতীয় পরিচয় পত্র ভুল সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক।


 সংক্ষেপে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পদ্ধতি


জাতীয় পরিচয় পত্র সংক্রান্ত অনলাইন সেবগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং প্রয়োজনীয় একটি সেবা হলো ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন। বাংলাদেশের এনআইডি পোর্টাল থেকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে খুব সহজেই এই সেবাটি পাওয়া যেতে পারে ।এর জন্য যে কাজগুলো আপনাকে করতে হবে :


১.জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর দিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে একাউন্ট তৈরি করতে হবে ।

২.ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে ।

৩.স্মার্ট আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে তথ্য প্রদান ।


টিকটকে ফলোয়ার বাড়ানোর উপায় |  টিকটক কিভাবে অটো লাইক নিতে পারবেন


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের প্রথমে করণীয়:


ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর দিয়ে service snidw.gov.bd এ একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে ।ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গেলে রেজিস্টার করতে পারবেন ।ওয়েবসাইটে আপনাকে 'রেজিস্টার করুন' নতুন নিবন্ধনের জন্য 'আবেদন করেন'এমন অপশন দেখাবে । জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য আপনাকে 'রেজিস্টার' বাটনে গিয়ে একাউন্ট তৈরী করতে হবে। 'আবেদন করুন' অপশন যাদের ভোটার আইডি কার্ড এখনো হয়নি তাদের জন্য ।রেজিস্টার এর জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র/ ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ,জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে ।


ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি কত টাকা?


 ভোটার আইডি কার্ডের সামনের ও পেছনের পৃষ্ঠায় কিছু তথ্য থাকে যেগুলো জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধনের সময় নাগরিকরা ফরম -2 এর মাধ্যমে প্রদান করে থাকেন ।এগুলো যেমন: বাংলা ও ইংরেজিতে জাতীয় পরিচয় পত্রধারীর নাম, বাংলাতে বাবা ও মায়ের নাম, ইংরেজিতে জন্মতারিখ ,ভোটার আইডি নম্বর ,স্বাক্ষর এবং পেছনে বাংলায় ঠিকানা ,ইংরেজিতে জন্মস্থান ও রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত ।


এসব তথ্যের মধ্যে যেকোনো তথ্য পরিবর্তন করতে হলে প্রথমবার আবেদনের ক্ষেত্রে 230 টাকা দিতে হবে , দ্বিতীয় বার 345 টাকা এবং তারপর থেকে প্রতিবার আবেদনের জন্য 575 টাকা জমা দিতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধনের সময় নাগরিকরা সেই ফরম-২ তে কিছু তথ্য প্রদান করার প্রয়োজন হয় ,যেগুলো ভোটার আইডি কার্ডে প্রদান করা হয়ে থাকে ।এগুলোর মধ্যে আছে প্রার্থীর পেশা,পাসপোর্ট, মোবাইল নাম্বার ,শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি ।যদি কোন প্রার্থী এগুলো সংশোধন করতে চান তাহলে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি বাবদ 115 টাকা লাগবে ।


 জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি জমাদান :


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি বিকাশ ,রকেট ওকে ওয়ালেট এর মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসে জমা দেওয়া যায়। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে মে একাউন্ট খুলেছেন, সেখানে লগইন করুন। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে এবার 'প্রফাইল' অপশনে ক্লিক করতে হবে। 


জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য গুলো ৩ ভাগে বিভক্ত ব্যক্তিগত তথ্য ,অন্যান্য তথ্য ও ঠিকানা।প্রার্থী তেই ধরনের তথ্য সংশোধন করতে চান ,সেই ধরনের তথ্যের ট্যাবে যেতে হবে । এবার এডিট বাটনে ক্লিক করলে আপনি কোন কোন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সংশোধনের ফি প্রদান করতে পারবেন তা দেখতে পাবেন। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন এ কি কি বিষয় পরিবর্তন করতে চান তা সিলেক্ট করতে হবে। 'ট্রানজেকশন' ট্যাব এ এবার আপনাকে ফি পরিশোধ করতে হবে ।ফি পরিশোধ ব্যতীত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর পরবর্তী ধাপে আপনি যেতে পারবেন না। 


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের পরের ধাপ হলো আবেদন ধরণ নির্ধারণ করা 


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের ধরন নির্ধারণে অনেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। স্মার্ট আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রের যে সকল তথ্য গুলো আমরা দেখতে পাই সেগুলো সংশোধনের জন্য 'জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন' এর আওতায় এবং যেসব উপাত্তগুলো ভোটার আইডি কার্ড প্রদর্শিত থাকে না সেগুলোর জন্য 'তথ্য-উপাত্ত সংশোধন' বা 'অন্যান্য তথ্য পরিবর্তন' এর আওতায় পড়ে ।


তাই আপনি যে ধরনের তথ্য সংশোধন করছেন তার ওপর নির্ভর করবে আবেদনের ধরন। এরপর আপনি বিকাশ বা রকেট /যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে 'পে বিল' অপশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি জমা দিতে পারবেন। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের নির্ধারিত ফি পরিশোধের 30 মিনিট পর থেকে তথ্যসম্পাদনা শুরু করা যায়।সংশোধিত স্মার্ট আইডি কার্ড ভোটার আইডি কার্ড হাতে পেতে সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ।


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি লাগে?

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি পরিশোধের পর পরই আসবে তথ্য সম্পাদনের পেজ।এই অংশে তথ্য প্রদান করার পাশাপাশি তথ্যের সাথে প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র আপলোড করতে হয় ।


ভোটার আইডি কার্ডের নাম অথবা জন্ম তারিখ সংশোধনের যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয় সেগুলো হলোঃ


১. জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে।


২.কমপক্ষে এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেট লাগবে ।


শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা সমমানের নিচে হলে এবং প্রার্থী সরকারি,স্বায়তশাসিত,আধা স্বায়তশাসিত অথবা সংবিধিবদ্ধ কোন সংস্থায় কর্মরত থাকলে সেক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য চাকরির বই বা মাসিক পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট বা ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। 


এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কি করতে হবে?- ঘরে বসে ভোটার আইডি কার্ড রিইস্যু:


৩.ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য প্রার্থী যদি বিবাহিত হয়ে থাকে তাহলে স্বামী-স্ত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র এবং কাবিননামার সত্যায়িত কপি লাগবে ।ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন বিবাহ জনিত কারণে নারীদের নামের পরিবর্তন করতে হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কাবিননামা, তালাকনামা বা স্বামীর মৃত্যু সনদ, জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক হলফনামা বা বিবাহ বিচ্ছেদ ফরমানের সত্যায়িত কপি লাগবে।


 ৪. ধর্ম পরিবর্তন বা অন্য কোন কারণে প্রার্থীর জাতীয় পরিচয় পত্রে যদি পুরো নাম সংশোধনের প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কর্তৃক হলফনামা, ওয়ারিশ সনদপত্র ,জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি ,ইউনিয়ন /পৌরসভা/ সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রার্থীর নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়ন পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স /এমপিও কপি জমা দিতে হবে।


৫.বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে স্বামীর নাম কিভাবে বাদ দিতে হবে?


এক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের নিয়ম অনুসারে আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে।


 জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতা বা মাতার নাম সংশোধনে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন:


ভোটার আইডি কার্ডে পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের সময় পিতা ও মাতার নাম জাতীয় পরিচয় পত্রে উল্লেখ থাকলে প্রার্থীর পিতা-মাতা ভাই ও বোনের এনআইডি সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া লাগবে। 


ভোটার আইডি কার্ডে পিতা বা মাতার নামের পূর্বে 'মৃত' সংযোজন করতে হলে সে ক্ষেত্রে পিতা ও মাতার মৃত্যুর সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে ।পিতা ও মাতা যদি জীবিত থাকে সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান /পৌর মেয়র/ কাউন্সিলর প্রত্যয়ন পত্র, পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। 


জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা সংশোধনের জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে :


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে যদি ঠিকানা সংশোধন করতে চান ,তাহলে বাড়ির দলিল বা টেলিফোন,গ্যাস বা পানির বিল, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র /বাড়িভাড়া রশিদের সত্যায়িত কপি লাগবে ।


  • জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনী রক্তের গ্রুপ সংশোধনের জন্য ডাক্তারি সনদপত্র প্রয়োজন হবে ।


  • ভোটার আইডি কার্ডে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সত্যায়িত কপির প্রয়োজন হবে ।


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের পর হাতে পাবেন যেভাবে


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে উপর্যুক্ত কার্যাবলি সম্পাদনের পর ,ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদনের নির্ধারিত কার্যদিবস পর আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসবে ।


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন অনুমোদন  মেসেজ আসার পর সংশোধিত ভোটার আইডি কার্ডটি ওয়েবসাইটে আপনার একাউন্টে ঢুকলে দেখতে পাবেন।আপনি সংশোধিত ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করার পর লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারবেন।


ইলেকট্রনিক চিপ যুক্ত সংশোধিত জাতীয় পরিচয় পত্রটি/ স্মার্ট আইডি কার্ডটি হাতে পাওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই তার ভোটার অঞ্চল থেকে সরাসরি নির্বাচন অফিস বা উল্লেখিত কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি সংগ্রহ করতে হবে।


 জাতীয় পরিচয় পত্র সংক্রান্ত আরো যেকোনো তথ্য পেতে হলে সরকারি কর্ম দিবস গুলোতে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে যেকোনো সময় যোগাযোগ করতে ডায়াল করুন 105 নম্বরে।


জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দিবেন


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডে প্রদর্শিত তথ্যসমূহের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নিজের নাম, পিতা- মাতার নাম ,জন্ম তারিখ। ভুল সংশোধনের সময় খুব সতর্কতার সাথে এই তথ্যগুলো পরিবর্তন করতে হবে।


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন নিয়ে বা ভোটার আইডি কার্ডে কোন ভুল থাকলে সেটা নিয়ে অনেকে খুব বেশি চিন্তায় পড়ে যান জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন নিয়ে উপরের আলোচনা ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দেন কোন প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করুন কমেন্ট করে। 


অনলাইনে সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন | সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন করার নিয়ম


সরকারি কম্পিউটার কোর্স 2022 | সরকারি অর্থায়নে ফ্রি কম্পিউটার আইটি কোর্স ২০২২


إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم