অনলাইনে সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন | সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন করার নিয়ম

অনলাইনে সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন করবেন যেভাবে:

অনলাইনে সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন করবেন যেভাবে:


বাংলাদেশে মোট নয়টি শিক্ষা বোর্ড আছে। রাজশাহি বোর্ড, সিলেট বোর্ড ,ঢাকা বোর্ড, দিনাজপুর বোর্ড , ময়মনসিংহ বোর্ড, বরিশাল বোর্ড ,চট্টগ্রাম বোর্ড, কুমিল্লা বোর্ড, যশোর বোর্ড। পরীক্ষায় পাসের পর যে সার্টিফিকেট আমরা পাই তাতে অনেকেই নিজের নাম ,মায়ের নাম,বাবার নাম এবং অনেক তথ্য ভুল থাকে।


সেগুলো সংশোধন করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এক্ষেত্রে সার্টিফিকেট ভুল সংশোধন করতে অনেক অর্থ প্রয়োজন হয় ।তবে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে সার্টিফিকেট এর ভুলগুলো সংশোধন করতে পারেন ।নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধনের আবেদন করে নাম সহ যে কোন ভুল সংশোধন করতে পারেন।


অনলাইনে সার্টিফিকেট এর ভুল সংশোধনের জন্য কি কি করতে হবে ?

সনদপত্রে নিজের নাম সহ অন্যান্য ভুল সংশোধনের জন্য কি কি কাগজ প্রয়োজন ? সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ গুলো নিয়ে চলুন জানা যাক। নিচে ভুল সংশোধন নিয়ে আলোচনা করা হলো:


সার্টিফিকেটের নাম বা জন্মতারিখ ভুল সংশোধনে সর্বপ্রথম আপনার করণীয় কি?


সনদপত্রের নাম বা জন্মতারিখ ভুল সংশোধনের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট বা নোটারি করাতে হবে ।নিজের নাম সংশোধনের জন্য প্রার্থীর বয়স যদি 18 বছরের বেশি হয় তাহলে তিনি নিজেই এফিডেভিট করতে পারবেন আর যদি প্রার্থীর বয়স 18 বছর পূর্ণ না হয়,


অথবা প্রার্থীদের সার্টিফিকেটে তার মা- বাবার নাম সংশোধন করতে চান, তবে প্রার্থীর বাবা কর্তৃক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বানোটারি পাবলিকের কাছ থেকে এফিডেভিট করতে হবে ।এক্ষেত্রে 500 টাকার মতো খরচ হবে।



 সার্টিফিকেটে নাম সংশোধনের দ্বিতীয় ধাপে আপনি কি করবেন?


সার্টিফিকেটে ভুল সংশোধনের প্রথমে হলফনামা  সম্পাদনের পর একটি যেকোনো দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে ।সার্টিফিকেট ভুল সংশোধনের দৈনিক পত্রিকায় দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সার্টিফিকেট নাম ,মায়ের নাম ,বাবার নাম, পরীক্ষার সাল, শাখা, রোল নম্বর, পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম ,


শিক্ষা বোর্ডের নাম এবং জন্মতারিখ উল্লেখ করে যেটা সংশোধন করতে চায় (বাবার নাম,মায়ের নাম বা জন্মতারিখ )সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে। আর পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য 300 টাকার মতো খরচ হবে ।তবে কমবেশি হতে পারে।


সনদপত্রের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে উপরের দুটি কাজ সম্পাদনের পর প্রার্থী যে স্কুল বা কলেজে লেখাপড়া করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সাহায্য লাগবে ।অনলাইনে সার্টিফিকেট ভুল  সংশোধন করতে এর কোন বিকল্প নাই।


সার্টিফিকেটে ভুল সংশোধনের জন্য এবার আপনাকে উপরের উল্লেখিত দুটি কাগজের সাথে আপনার জন্ম সনদ নিয়ে সরাসরি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে হবে ।এ পর্যায়ে সার্টিফিকেট সংশোধনের ক্ষেত্রে এই কাজটি আপনার বাসায় বসেই করতে পারবেন না।


কারণ আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ই আই আই এন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে করা হয় এর একটি সুবিধা হলো, নিজের স্কুল বা কলেজ থেকে কাজ হয়ে যাবে ।আপনাকে শিক্ষাবোর্ডে যেতে হচ্ছে না। 



সার্টিফিকেটে নাম বা অন্যান্য ভুল সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠানে কাগজ পত্র জমা দান:


কাগজগুলো সাজানোর পর আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কে জানাতে হবে । তিনি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অপারেটরকে অনলাইন আবেদন করার নির্দেশনা দেবেন। আপনার ডকুমেন্টস গুলো স্ক্যান করে আবেদন করার পর, আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে মেসেজ চলে আসবে ।


তারপর সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি জমাদানের জন্য রশিদ নিবেন। প্রতিটি সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য 558 টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর রশিদ অবশ্যই যত্ন করে রেখে দেবেন। আবেদন ফি জমা না দিলে আপনার করার আবেদন গৃহীত হবে না।


সার্টিফিকেটে ভুল সংশোধনের আবেদন ফি জমা করার পর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে educationboard.gov.bd আলাদা একটা প্রোফাইল তৈরি হয়ে যাবে। নিজ নিজ বোর্ড(যেমনঃrajshahieducationboard.gov.bd) শিক্ষা বোর্ডের প্রোফাইল লগইন করে আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন ।


সনদপত্রের ভুল সংশোধনের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পর ৩ মাস অপেক্ষা করতে হবে ।আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ মাস বা তার বেশি সময় লাগবে ।যখন প্রক্রিয়াটি শেষ হবে তখন আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে মেসেজ আসবেএবং আপনি আপনার আবেদন করেছে প্রোফাইল তৈরি হয়েছিল তা লগইন করে সেখানে আপনার জন্য একটি নতুন অপশন 'ডকুমেন্ট উত্তোলন' আসবে ।


সেই অপশনে গিয়ে আপনি ডকুমেন্ট উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে সার্টিফিকেট এর ভুল সংশোধনের পর ডকুমেন্ট উত্তোলনের জন্য এবার আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ এখন আপনার কাছে সেই সাইটে লগইন এর জন্য পাসওয়ার্ড আছে সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ডকুমেন্ট উত্তোলন করতে চান সেটার জন্য ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করুন ।


সংশোধনকৃত সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য আবেদন করার পর সার্টিফিকেট উত্তোলন ফি বাবদ 558 টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা করার জন্য একটা ডকুমেন্ট পেয়ে যাবেন ।সেটা নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে । সার্টিফিকেট উত্তোলনের ফি জমা দিতে হবে।


 অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধনের ধাপগুলো শেষ এবার এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আপনার দেয়া মোবাইল নম্বরে মেসেজ আসবে ।আপনার ডকুমেন্ট রেডি হয়ে গেছে । তখন আপনাকে আবার আপনার সার্টিফিকেট ভুল সংশোধনের জন্য তৈরি প্রোফাইলে লগইন করে উত্তোলন করার চূড়ান্ত ডকুমেন্ট ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। এরপর আপনাকে প্রথমবারের মতো আপনার শিক্ষা বোর্ডে যেতে হবে।


শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে আপনার অরিজিনাল সার্টিফিকেট গুলো জমা দিতে হবে। এর পরের দিন বিকালে আবার সেই অফিসে যাবেন চূড়ান্ত ডকুমেন্ট ও ব্যাংকের জমাদানের রশিদ এর মূল কপি জমা দেবেন। তারপর বুঝে নেবেন আপনার কাঙ্খিত নতুন সংশোধিত সার্টিফিকেট।


এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কি করতে হবে?- ঘরে বসে ভোটার আইডি কার্ড রিইস্যু:



সার্টিফিকেটে মায়ের নামের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া:


 অনেকের সার্টিফিকেটে মায়ের নামে ভুল থাকে। সার্টিফিকেটে মায়ের নাম,বাবার নাম সংশোধনের জন্য নোটারী পাবলিক ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর কাগজের সাথে আপনার বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিয়ে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে । সার্টিফিকেটে নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে বাকি প্রক্রিয়াগুলোর ধারাবাহিকতা ঠিক থাকবে।



সার্টিফিকেটে বা সনদ পত্র নাম সংশোধনের জন্য কতদিন সময় লাগবে?


সার্টিফিকেটে সংশোধনের সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা শেষ হতে 143 দিনের মত সময় লাগবে। কমবেশি হতে পারে । অনলাইনে সনদপত্র সংশোধন ও সনদপত্র উত্তোলনের জন্য কোন অতিরিক্ত ফি প্রদান ও হয়রানি ছাড়া কাজটি করতে হলে আপনাকে একটু ধৈর্য ধরতেই হবে। এক্ষেত্রে এটা অনেক সহজ এবং কারো টেবিলের ফাইল নিয়ে দৌড়ানোর প্রয়োজন হয় না।



সার্টিফিকেটে নাম সংশোধন করতে মোট খরচের পরিমাণ:


অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য আপনার খরচ হবে:

 এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য আপনাকে আবেদন ফি দিতে হবে 558×2=1116 টাকা । আবার সার্টিফিকেট সংশোধনের পর সনদপত্র উত্তোলনের জন্য 558×2= 1116 টাকা (২টি) লাগবে। মোট খরচ ৩০৩২ টাকা কমবেশি হতে পারে । যাতায়াত বাবদ আরও কিছু টাকা আপনার ধরে রাখতে হবে।



সার্টিফিকেটে ভুল সংশোধনের করণীয়গুলো নিয়ে লেখাটি দ্বারা উপকৃত হলে আপনার পরিচিতদের শেয়ার করুন ।আর কিছু জানার থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।


What is programming? Which programming language should I learn first?


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post